এডোবি ইলাস্ট্রেটরের জন্য বেশ কিছু দরকারী টেকনিক

  • by
এডোবি ইলাস্ট্রেটরের দরকারী টেকনিক

আজ আমরা এডোবি ইলাস্ট্রেটরের জন্য বেশ কিছু দরকারী টেকনিক নিয়ে আলোচনা করবো। তাহলে, চলুন শুরু করি।

ভেক্টর গ্রাফিক্স তৈরির জন্য এডোবি ইলাস্ট্রেটর একটি অন্যতম কার্যকরী টুলস। বিশ্বের অসংখ্য ডিজাইনার প্রতিনিয়ত এই সফটওয়্যার তাদের গ্রাফিক্সের কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এডোবি ইলাস্ট্রেটর এবং ফটোশপকে এক বলে মনে হলেও এই দুটির মাঝখানে কিছু পদ্ধতিগত পার্থক্য আছে। এখানে এডোবি ইলাস্ট্রেটরের কিছু বেসিক টেকনিক নিয়ে আলোচনা করবো। যাতে নতুনরা পার্থক্যগুলো বুঝতে পারে।

এডোবি ইলাস্ট্রেটরের জন্য ১০ টি দরকারী টেকনিক হচ্ছেঃ

১। ব্রাশ টুলসের ব্যবহারঃ

এডোবি ইলাস্ট্রেটরের ব্রাশ টুলসটি ব্যবহার করা হয় কোনও গ্রাফিক্সের আউটলাইন তৈরি করার জন্য। এছাড়াও কোনও অবজেক্টের চুল বা চুলের মত টেক্সচার তৈরি করতেও ব্যবহার হয় ব্রাশ টুল। কেউ কেউ অলংকারিক নকশা বা  গাছের পাতা ইত্যাদি তৈরি করতেও ব্রাশ টুলস ব্যবহার করে থাকেন। ব্রাশ টুলসের ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে ডিজিটাল পেইন্টিং এর ক্ষেত্রে। এডোবি ইলাস্ট্রেটর ব্রাশ টুলসটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে নিজের ইচ্ছামত ব্রাশ তৈরি ও ব্যবহার করা যায়।

২। সিম্বল স্প্রেয়ার টুলসঃ

সিম্বল স্প্রেয়ার টুলসটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে মিনিটের মধ্যে অসংখ্য অব্জেক্ট তৈরি করা যায়। যেমন স্ট্রবেরির বীজ। মাত্র একটি বীজ তৈরি করে সেটিকে সিম্বল হিসেবে সেভ করে, তারপর সিম্বল স্প্রেয়ারের মাধ্যমে অসংখ্য বীজ তৈরি করা যায়। এই সিম্বলগুলো গ্রুপ হিসেবে থাকে। এগুলোকে পৃথক করতে অবজেক্ট মেনুর এক্সপেন্ড কমান্ডটি ব্যবহার হয়ে থাকে।

৩। পাথ ফাইন্ডারঃ

বিভিন্ন আকৃতি তৈরির জন্য পাথ ফাইন্ডার একটি বহুল ব্যবহৃত টুলস। পাথ ফাইন্ডারের সাহায্যে দুটি ওভারল্যাপিং অবজেক্টকে জোড়া লাগানো যায়। অথবা দুটি অবজেক্টের বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে পরস্পর সংযুক্তিকরন ও বিযুক্তকরনের মাধ্যমে নতুন নতুন আকৃতি তৈরি করা যায়। পাথ ফাইন্ডারের জন্য (shift+ctrl+f9) এক সঙ্গে চাপলেই পর্দায় প্রদর্শিত হবে।

৪। গ্র্যাডিয়েন্ট টুলসঃ

এই টুলসটির মাধ্যমে দুটি রংকে একীভূত করা হয়। অনেক সময় কোন অবজেক্টের শেড বা আলো আঁধার তৈরি করতেও এই টুলসটি ব্যবহার হয়ে থাকে। গ্র্যাডিয়েন্ট টুলস দুই ধরনের হয়। একটা হচ্ছে সমান্তরাল ও আরেকটা হচ্ছে গোলাকার। গ্র্যাডিয়েন্ট টুলসের জন্য শর্টকাট কী “জি” ব্যবহার করা হয়।

৫। পেন টুলসঃ

নিজের ইচ্ছামত আকৃতি তৈরি করতে পেন টুলস অনন্য। পেন টুলসের মাধ্যমে অতিরিক্ত কমান্ড ব্যবহার না করেই নিজের পছন্দমত আকৃতি তৈরি করা সম্ভব। এটা অনেকটা হাতের তালুতে আঁকার মতই সহজ। পেন টুলসে বিভিন্ন শেইপ তৈরি করতে প্রথমে নির্দিষ্ট এংকর পয়েন্টটি সিলেক্ট করে নডটি বড় বা ছোট করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়া হয়। পেন টুলসের উপর দক্ষতা প্র্যাকটিসের উপর নির্ভর করে।

৬। ওয়ার্প টুলঃ

ওয়ারপ টুলের মাধ্যমে একটি অবজেক্টকে ইচ্ছামত বাঁকানো যায় বা কলসির মত আকৃতি দেয়া যায়। এই আকৃতিগুলো পেন টুল বা অন্য কোনও ভাবে করা খুবই কষ্টসাধ্য এবং পুরোপুরি নিখুঁত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ওয়ারপ টুলসের মাধ্যমে এই ধরনের আকৃতি খুব সহজেই তৈরি করা সম্ভব।

৭। লেয়ার প্যানেলঃ

এডোবি ইলাস্ট্রেটরে লেয়ার প্যানেলটি ফটোশপ থেকে অনেক ব্যতিক্রম। লেয়ার প্যানেলে একটি মুল লেয়ারের নিচে অনেকগুলো লেয়ার থাকতে পারে। তাই বিন্যাসের সুবিধার্থে ভিন্ন ভিন্ন অবজেক্টের ভিন্ন ভিন্ন লেয়ার তৈরি করে নিতে হয়।

৮। অবজেক্ট ট্যাবঃ

কয়েকটি লেয়ারকে একসাথে গ্রুপিং করতে বা আলাদা করতে বহুল ব্যবহৃত হয় অবজেক্ট ট্যাব। এছাড়াও একটি অবজেক্টকে ভিন্নভাবে প্রদর্শন করতে বা বিভিন্ন এয়ঙ্গেলে ঘুরাতেও ব্যবহার করা হয় অবজেক্ট ট্যাব।

৯। টাইপ টুলের ব্যবহারঃ

লেখা টাইপ করতে বা বিভিন্ন টাইপোগ্রাফি ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয় টাইপ টুলস। টাইপ টুলসের মাধ্যমে যে কোনও ধরণের টাইপোগ্রাফি তৈরি করা যায় এবং এদের ফাংশন গুলোও আলাদা।

১০। ম্যাশ টুলঃ

ম্যাশ টুলসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রিটিকাল কালার কম্বিনেশন তৈরি করা হয়। এছাড়াও রিয়ালিস্টিক ইমেজ তৈরি ও থ্রি-ডি গ্রাফিক্সের জন্য ম্যাশ টুল বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।

১১। রিফ্লেক্ট টুলসঃ

রিফ্লেক্ট টুলসের মাধ্যমে কোনও অবজেক্টকে বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘুরাতে ও বিপরীতমুখী অবজেক্ট তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।

১২। ব্লেন্ড টুলসঃ

ব্লেন্ড টুলস থ্রিডি অবজেক্ট বা ছায়া তৈরির কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একসাথে অনেক গুলো অবজেক্ট তৈরির কাজেও ব্লেন্ড টুলস ব্যবহার করা হয়।

১৩। এক্সপেন্ড টুলসঃ

এক্সপেন্ড টুলস দিয়ে একীভূত বিভিন্ন ফন্ট ও লেয়ারকে স্বতন্ত্র লেয়ার বা অবজেক্ট হিসেবে আলাদা করা যায়। এক্সপেন্ড এবং গ্রুপিং টুলস হচ্ছে পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি টুলস। যা দিয়ে বিভিন্ন অবজেক্ট গ্রুপ ও আলাদা করা যায়।

এডোবি ইলাস্ট্রেটরের সম্ভবত ১০০ এরও বেশি টেকনিক আছে, যেগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজাইন তৈরি করা খুবই সহজ। তবে এই টেকনিক গুলো আয়ত্ত করা অনেকটাই নিয়মিত প্র্যাকটিসের উপর নির্ভরশীল।

উপরোল্লিখিত টেকনিকগুলো খুবই বেসিক টেকনিক, যা দিয়ে যে কোনও ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব এবং নতুনদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও এডোবি ইলাস্ট্রেটরের দরকারী টেকনিক আরো অনেক আছে, যা দিয়ে অসাধারণ সব গ্রাফিক্স তৈরি করা যায়। ইলাস্ট্রেটরের আরো কিছু টেকনিক শিখতে বিভিন্ন অনলাইন কোর্স বা গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর ট্রেনিং নিতে পারেন।

আপনার বিজনেস বা ওয়েবসাইটের জন্য বেসিক ডিজাইন, লোগো, ইলাস্ট্রেশন, ব্রোশার, কভার পেইজ, বিজনেস কার্ড ও ইবুক ও অন্যান্য স্টেশনারী সামগ্রী ডিজাইন করতে হলে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমাদের এক্সপার্ট টিম অত্যন্ত যত্নের সাথে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.